মিথ্যে হয়রানির অভিযোগ দিয়ে ধরা পড়লেন সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার

 মিথ্যে হয়রানির অভিযোগ দিয়ে ধরা পড়লেন সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার


ভারতের গত কিছুদিন যাবত একটি ভিডিও খুব ভাইরাল হচ্ছে। সে ভিডিওতে একজন ইনস্টাগ্রাম ইনফ্লুয়েন্সার 'জোমাটো' নামের একটি ফুড ডেলিভারি সার্ভিসের এক কর্মীর দ্বারা হয়রানির শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেন। তিনি অভিযোগের ভিডিও তে বলেন," আমার খাবারের অর্ডার টি আসতে দেরি হচ্ছিল এবং আমি কাস্টমার কেয়ারে এ বিষয়ে কথা বলছিলাম। এবং ইতিমধ্যে জোমাটো ডেলিভারি বয় আমাকে আঘাত করে রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে পালিয়ে যায়। দয়া করে ভিডিওটি শেয়ার করুন।"


পরবর্তীতে আরও এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, " চলুন আপনাদের কে আমি সম্পূর্ণ ঘটনা বলি। আমি আজও জোমাটো থেকে খাবার অর্ডার করেছিলাম কারণ আমি সকালে কাজে ব্যস্ত ছিলাম। আমি দুপুর 3:30 এর দিকে জোমাটো থেকে খাবার অর্ডার করি যা বিকেল 4:30 টার মধ্যে আমার কাছে পৌঁছানোর কথা ছিল। কিন্তু অর্ডারটি সময়মতো পৌঁছায়নি যার কারণে আমি বারবার তাদের কাস্টমার কেয়ারে যোগাযোগ করছিলাম এবং ফলাফল স্বরূপ তাদের কাছে ফ্রি খাবার চাচ্ছিলাম অথবা অর্ডারটি ক্যান্সেল করা যাবে কিনা সেটা জানতে চাচ্ছিলাম। ইতিমধ্যে ডেলিভারি বয় তার খাবার নিয়ে আমার কাছে পৌঁছে যায় এবং আমার সাথে তার আচরণ খুবই রুঢ় ছিল। আমি সচরাচর সম্পূর্ণ দরজা খুলি না যার কারণে আমি একটি ছোট দরজা দিয়ে তার সাথে কথা বলার চেষ্টা করছিলাম। এবং আমি তাকে বলছিলাম আপনি কিছুক্ষণ সময় অপেক্ষা করুন আমি দেখছি তারা খাবারটি ফ্রিতে দেবে নাকি আমি অর্ডারটি ক্যান্সেল করতে পারব। এবং আমি তাকে দুইটি অপশন দিয়ে ছিলাম। হয় আমাকে খাবার ফ্রিতে দিতে হবে অথবা দেরি হওয়ার কারণে অর্ডারটি ক্যান্সেল করে খাবার ফেরত নিয়ে যেতে হবে। কিন্তু সে খাবার নিয়ে যেতে রাজি হচ্ছিল না এবং বলেছিল আমি আপনার চাকর নই আমি অপেক্ষা করতে পারব না। তার এ ব্যবহারে আমি খুব ভয় পেয়ে যাই এবং যে দরজা টি দিয়ে তার সাথে কথা বলছিলাম সেটি বন্ধ করে দেয়ার চেষ্টা করছিলাম। কিন্তু সে দরজা ধাক্কা দিয়ে জোরপূর্বক আমার ঘরে প্রবেশ করে টেবিলে রাখা খাবারটি হাতে তুলে নেয় এবং আমাকে সজোরে একটি ঘুসি দেয়। এবং তারপর সে দৌড়ে পালিয়ে যায়। দুর্ভাগ্যবশত তাকে ধরার মতো আশেপাশে কেউ ছিল না।"  


সোশ্যাল মিডিয়ায় মুহূর্তে খবরটি ছড়িয়ে যায় এবং অনেকেই সে ইনফ্লুয়েন্সার এর পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে। অল্প কিছুদিনের মধ্যে তার ইনস্টাগ্রাম ফলোয়ার সংখ্যা ৩৬ হাজার থেকে ৫০ হাজার পার করে যায় যা ক্রমাগত বাড়তেই আছে। জোমাটো সেই কর্মী কে কোন রকমের বর্ণনা না শুনে তাকে চাকরি থেকে ছাঁটাই করে দেয়। পরবর্তীতে সে ডেলিভারি বয় অন্য একজন সোশ্যাল মিডিয়া পারসোনালিটির সাথে লাইভে আসেন এবং তার পক্ষের কথা সকলকে জানান। 


কামারাজু নামের সেই ডেলিভারি বয় তার ভিডিও বার্তায় বলেন, 'অর্ডারটি HSR কাঠামোতে করা হয়েছিল। মা আমার ইলেকট্রনিক সিটি তে নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল। সেদিন রাস্তায় খুব জ্যাম ছিল। আমি সেখানে খাবার নিয়ে পৌঁছায় এবং তাকে ফোন করি। তিনি আমাকে পঞ্চম তলায় যেতে বলেন। তিনি ইতিমধ্যেই দরজার বাইরে ছিলেন। আমি তার কাছে খাবার আনতে দেরি হওয়ার জন্য মাফ চাই এবং তাকে খাবারের পার্সেলটি দেই। আমার সেখানে পৌঁছাতে 15 মিনিটের মত দেরি হয় এবং আমি তাকে রাস্তায় জ্যাম এবং রোড ব্লক সম্পর্কে অবগত করি। তিনি আমার কথায় মনোযোগ না দিয়ে জোমাটো কাস্টমার সাপোর্ট এর সাথে কথা বলছিলেন।

আমি তাকে আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ না জানাতে অনুরোধ করি এবং তাকে বলি অভিযোগের কারণে আমার চাকরি চলে যেতে পারে। আমি তাকে বিল টা দেয়ার জন্য অনুরোধ করি এবং বলি এটি একটি ক্যাশ অন ডেলিভারি অর্ডার। তিনি বলেন আমি দেরি করে আশায় তিনি আমাকে খাবারের বিল দিবেন না। এবং তিনি খাবারের আইটেম ফেরত দিবেন না। তিনি আমার সাথে খুব বাজে ব্যবহার করায় আমি তাকে সম্মানের সহিত আমার সাথে কথা বলার অনুরোধ জানাই। তিনি বলেন তুমি একজন চাকর, আমি তোমাকে সম্মান দিবো না। খাবারের প্যাকেট দরজার কাছে ছিল। আমি সেটি ফেরত নিয়ে লিফটের দিকে যেতে থাকি। এদিকে তিনি আমাকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি শুরু করেন এবং এক পর্যায়ে সে তার জুতা দিয়ে আঘাত করে শুরু করে। আমি তাকে আটকানোর জন্য তার হাত সরিয়ে নিজেকে বাঁচানোর চেষ্টা করি। তিনি হাতে আংটি পরে ছিলেন যা গিয়ে তার নাকে লাগে এবং সেখানে কেটে যায়। এবং আমি দ্রুত সেখান থেকে পালিয়ে চলে যাই। যা পরবর্তীতে তিনি প্রমাণ হিসেবে আমার বিরুদ্ধে কাজে লাগিয়ে আমার নামে মিথ্যা অভিযোগ করেন।"


ডেলিভারি বয়ের এ ভিডিও বার্তা দেখে সবাই এবার তার পক্ষে কথা বলা শুরু করে। টুইটারে #reinstatekamaraj হ্যাশট্যাগ ট্রেন্ড করা শুরু করে এবং তার জন্য ন্যায় বিচারের দাবি জানান। অনেক বড় বড় সেলিব্রিটি রাও এই অসহায় ডেলিভারি বয়ের পক্ষে কথা বলেন এবং তার জন্য ক্ষতিপূরণের দাবি করেন। কামারাজ তা এ স্টেটমেন্ট পুলিশে কে দেন এবং নিজের জন্য ন্যায় বিচারের আশা করেন।


Post a Comment

0 Comments