বাংলাদেশে এল এসে ডি আলোচনায় কেন বারবার উঠে আসছে সালমান খানের 'রাধে' ?


 বাংলাদেশে এল এসে ডি আলোচনায় কেন বারবার উঠে আসছে সালমান খানের 'রাধে' ?


সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ার সবচেয়ে বেশি আলোচিত দুটি বিষয় হচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রের আত্মহত্যা তথা বাংলাদেশে এল এসে ডি ব্যবহার এবং ঈদুল ফিতর উপলক্ষে মুক্তি পাওয়া সালমান খানের চলচ্চিত্র 'রাধে'। কিন্তু এই দুটি জিনিসের সম্পৃক্ততা কোথায়? আসুন জেনে নিই।


কিছুদিন আগে ঢাকা বাসী এক লোমহর্ষক আত্মহত্যার সাক্ষী হন। দিন দুপুরে এক তরুণ নিজের গলা থেকে পাগলের মত আচরণ করতে থাকে এবং এক পর্যায়ে সে মৃত্যুবরণ করে। তার নাম হাফিজুর। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন। ঈদুল ফিতরের ছুটি কাটিয়ে গ্রাম থেকে ফিরে এসে সে দিন ই তিনি পাগলের মত আচরণ করতে থাকেন। তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজের সামনে উপস্থিত এক ডাব ওয়ালা থেকে তার দা  ছিনিয়ে নিয়ে নিজের গলা কেটে ফেলেন এবং 'আমাকে মাফ করে দিও' বলে চার দিকে দৌড়াতে থাকেন।‌ সে এলাকার উপস্থিত পুলিশ তার এ অবস্থা দেখে তাকে সাহায্য করার চেষ্টা করেন কিন্তু তিনি রিকশা থেকে লাফ দিয়ে গলা কাটা অবস্থায় আবারো দৌড়াতে লাগলেন এবং এক পর্যায়ে তিনি মারা যান। মৃত্যুর আট দিন পর তার লাশ শনাক্ত করা হয় এবং এ খবর ঝড়ের বেগে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে যায়। কেউ বুঝে উঠতে পারেনা কেন এমন আচরণ করেন হাফিজুর।‌ কেন প্রতিভাবান এক শিক্ষার্থী এভাবে বিলিয়ে দিলেন নিজের প্রাণ? বহু তদন্তের পর এ প্রশ্নের উত্তরে জানা গেল যে কার্জন হলে তার সহপাঠীদের পাল্লায় পড়ে ভয়াবহ একটা নেশা জাতীয় দ্রব্য 'এল এস ডি' সেবন করেছিলেন হাফিজুর। এল এস ডি এর পরিচয় আমরা কিছুটা জানতে পেরেছিলাম প্রয়াত নন্দিত কথা সাহিত্যিক হুমায়ুন আহমেদ এর বই গুলোতে। এটি একটি ভয়াবহ রাসায়নিক দ্রব্য যা আপনার চেতনাকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেয়ার ক্ষমতা রাখে।


এল এস ডি সুস্থ মস্তিষ্কে কি প্রভাব ফেলে?

এল এস ডি সেবন করলে মানুষের মস্তিষ্ক তার সামনে অবাস্তব দৃশ্য কল্পনা করতে থাকে যা হ্যালুসিনেশন নামে পরিচিত। ‌ অনেকটা দুঃস্বপ্নের মতোই হ্যালুসিনেশন বাস্তবতার সাথে কোন মিল রাখে না তবুও সে মুহূর্তে  সে দৃশ্য ই সবচেয়ে বেশি বাস্তব বলে মনে হয়। যা মানুষকে প্রায় সময়ই দুর্ভাগ্যজনক কাজ কর্ম করতে বাধ্য করে।


বি বি সি এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এল এস ডি আমাদের মস্তিষ্কে থাকা এক ধরনের রাসায়নিক পদার্থ সেরোটোনিন এর অনুভূতি ও কাজকর্মকে নানা ভাবে প্রভাবিত করে। যার ফল স্বরূপ নেশাজাতীয় দ্রব্য সেবন কারী ব্যক্তি অবাস্তব চিন্তা ভাবনা করে এবং দৃশ্যাবলী নিজের মস্তিষ্কে তৈরি করে। ‌ এ কারণেই এল এস ডি ‌ এর শিকার ব্যক্তিরা প্রায়ই ভুল রাস্তায় হাঁটা শুরু করে অথবা বাড়ির ছাদ থেকে লাফ দেয়ার চেষ্টা করে কিংবা আরো ভয়ানক কোন দুর্ঘটনার শিকার হন।


researchgate.net‌ নামের একটি ওয়েবসাইট যা কিনা ইউরোপিয়ান বিজ্ঞানী ও গবেষকদের দ্বারা পরিচালিত,  তারা 2017 সালে এল এস ডি সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেন। তাদের একটি গবেষণার ফল অনুযায়ী তারা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যুক্তরাজ্য এবং কানাডার মতো দেশগুলোতে এল এস ডি এর ভয়াবহতার শিকার হয়ে 1953 থেকে 2007 পর্যন্ত মোট 64 জন ভয়াবহ মৃত্যু বরণ করেন। ‌

সাধারণত দুশ্চিন্তা ও হীনমন্যতায় ভোগে মানুষ এ ধরনের নেশার আশ্রয় নেয়। ‌ কিন্তু এ নেশা তাদের বিষন্নতা কমানোর পরিবর্তে বরং আরও বাড়িয়ে দেয় এবং তাকে অপ্রীতিকর কাজের দিকে ধাবিত করে।  এল এস ডি গ্রহণকারী ব্যক্তিরা নিজেদের কে অলৌকিক শক্তির অধিকারী মনে করেন এবং নানা ধরনের বিভ্রান্তিকর দৃশ্যাবলী দেখতে পান। যা তাদের ভয়াবহ দুর্ঘটনার পথে ঠেলে দেয়। অনেকে মনে করেন তারা খুব শীঘ্রই মারা যাবেন যার কারণে তারা অতিরিক্ত আতঙ্কে থাকেন এবং ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন। এটি গ্রহণের আগে কেউ বুঝতে পারেন না তারা পরবর্তীতে কিসের সম্মুখীন হতে যাচ্ছেন। যা এ ধরনের দ্রব্য ব্যবহারের অন্যতম কারণ। তা না হলে সুস্থ মস্তিস্কের কেউ নিজেদের জীবন এভাবে ধ্বংসের পথে ঠেলে দিত না। ‌


 এছাড়াও এল এস ডি শরীরের তাপমাত্রা বৃদ্ধি করে, হৃদস্পন্দনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়, শ্বাস-প্রশ্বাসে অস্বস্তির সৃষ্টি করে, অনিদ্রা বাড়িয়ে দেয়, ক্ষুধামন্দা জাগিয়ে তোলে ‌যা একটি মানুষের নিয়মিত রুটিন কে পুরোপুরি বিপর্যস্ত করে দেয় এবং তার মস্তিষ্কে একটি বড় প্রভাব ফেলে।


ঠিক এরকম কিছু ঘটনা নিয়েই তৈরি সালমান খানের নতুন চলচ্চিত্র  রাধে। বেশিরভাগ দর্শক ই এ চলচ্চিত্র দেখে বিরক্ত হয়েছেন এবং অনেকে নাকি সম্পূর্ণ চলচ্চিত্র দেখে শেষ করেননি। এত নেগেটিভ রিভিউয়ের পড় ও এই এল এস ডি  নিয়মিত আলোচনা-সমালোচনায় থাকছে বলিউডের এ সিনেমাটি।



Post a Comment

1 Comments